খোঁজ করুন

Tuesday, March 22, 2011

শীতের ছড়া


শীতটা তো কম নয়
পড়ছে বেশ জাঁকিয়ে
কনকনে উত্তুরে
হাওয়া দেয় কাঁপিয়ে
জবুথবু রোদ্দুর
ঘোরে না আর দাপিয়ে ।
ফুলেদের শীত নেই
তাই তারা হাসছে
হাঁসেদের ভয় নেই
তাই জলে ভাসছে ।
অনুতাপ নেই কোন
ঝর্ণা কি পাহাড়ের ।
প্রকৃতির মাঝে তবু
সজ্জা কী বাহারের ।

Tuesday, January 25, 2011

কবিতা


কবিতা - জামাল ভড়

Dolchhutকবিতা তুমি তো নও কেবলই এক

স্বচ্ছন্দে বয়ে চলা খরস্রোতা নদী

কবিতা তুমি তো নও কেবলই এক

আশিরপদনখ বিভূষিতা দয়িতা ।

তুমি তো নও শ্যামাঙ্গীর তির্যক চাহনি

কিংবা উদ্দাম ঝঞ্ঝার বৈশাখী তাণ্ডব

অথবা প্রখর তাপে ধুসর ঊষর

যেখানে নিসর্গও অবগুণ্ঠিত হয় ।

কবিতা তুমি এক পাহাড়ী নির্ঝরণী

পাশে ছুটে চলা এক চপলা হরিণী

তুমি বিষণ্ন হৃদয়ে প্রবোধদায়িনী

তব লাবণি-বানে সহসা প্লুত আমি

তুমি জ্যোৎস্নালোকে বসে থাকা চকোরী

চকোর আমি — তুমি সত্যিই মনোরঞ্জিনী ।



Thursday, January 13, 2011

বাঁচি ছেড়ে হাঁফ


                                            কালকে রাতে ঘুম ভেঙেছে হঠাৎ কিসের ডাকে
                                            তাকিয়ে দেখি দাঁড়িয়ে কে যে দুই গরাদের ফাঁকে
                                            ড্যাবড্যাবিয়ে তাকিয়ে আছে আমার দিকে চোখ
                                            ভেবেছিলাম হয়তো বুঝি অচেনা এক লোক ।
                                            লোকটা কোথা ? দাঁড়িয়ে সেথা একটা পাজি শেয়াল
                                            যেই ভেবেছি তাড়িয়ে দেব হঠাৎ এলো খেয়াল
                                            লাঠি কোথায় ? তাড়াই কিসে ? রাত যে এখন দুপুর !
                                            দুচোখ মুছে তাকিয়ে দেখি আমার পোষা কুকুর
                                            দুইপা তুলে দাঁড়িয়ে আছে সজল করুণ চোখে
                                            ভাবছি যখন দরজা খুলে জড়িয়ে ধরি বুকে
                                            আস্ত কুকুর মেকুর হয়ে বাইরে দিল লাফ
                                            স্বস্তিতে শ্বাস ফেলে তখন বাঁচি ছেড়ে হাঁফ ।

Monday, January 10, 2011

দুই শিয়ালের গল্প

 দুই শিয়ালের গল্প
     জামাল ভড়                      
রাতদুপুরে একটা শেয়াল
ডাকলো হেঁকে হুক্কা হুয়া -
পাশের শেয়াল ঘুমিয়ে ছিল
বললো উঠে , কেয়া হুয়া ?
পয়লা শেয়াল বললো তখন ,
দেখে এলাম পালবাবুদদের
মুর্গিরাখার খুপিখানি
হাট করে দোর খোলা ফের ।
লাফিয়ে বলে পাশের শেয়াল ,
আভি হামি যাতা হ্যায় ।
পয়্লা শেয়াল বললো তাকে ,
লেকিন বঁহা কুত্তা হ্যায় ।
চলনা ইয়ার , ঘুরেই আসি--
বললো আবার পাশের শেয়াল ;
পায়ে পায়ে গিয়ে দেখে
কুকুর যেন মস্ত দেয়াল ।
দ্বিতীয় শেয়াল হামা দিয়ে
একটু গেল যেই এগিয়ে
কুত্তাখানা ছুট্টে এসে
ধরলো পায়ে কামড় দিয়ে ।
তাইনা দেখে পয়লা শেয়াল
লাফটি দিয়ে ছুটলো বেগে ;
অতি লোভে তাঁতি মরে--
পিছু ফিরে বললো রেগে ।

কোলকাতা

     কোলকাতা
                জামাল ভড়
ক্যালকাটা  কেটে দিয়ে কোলকাতা লিখেছি
নাম দিয়ে ষোলআনা বাঙালী যে হয়েছি
       মহত্বের মহিমায়
       বীরত্বের গরিমায়
গলা ছেড়ে খুশিমনে হিন্দিগান ধরেছি
                   
বাংলার কোলকাতা বাংলাটা লেখেনা
ভিন্-ভাষায় কথা বলে বাংলাটা বলেনা
       সেই বীরপুরুষেরা
       চিরস্মরণীয়রা
লেখাপড়া জানে বটে বাংলাটা পড়েনা
                 
লোক বাড়ে কোলকাতায় বাঙালীরা কমছে    
চারিদিকে কলেবরে ফুলে ফেঁপে বাড়ছে
       ব্যবসাটা অবিরত
       বেওসা”-তে পরিণত
তবু ভালো আজকাল বাঙালীরা জাগছে





     

Sunday, January 9, 2011

ভালোবাসা

      ভালোবাসা
                  জামাল ভড়
ভালোবাসা তো ফুচকা নয় যে
আলুসেদ্ধর সাথে তেঁতুলগোলা জল
মিশিয়ে খাবে ; ভালোবাসা ঠিক কাঠি-আইসক্রিমও
নয় তারিয়ে তারিয়ে চুষে চুষে খাওয়ার ;
ভালোবাসা হৃদয়-মার্কা রঙীন ফানুসও নয়
হাওয়ায় ভরে উড়িয়ে দেওয়ার ;
ভালোবাসা বিশ্বকর্মাপুজোর দিন
ওড়ানো কোন বর্গাকারের ঘুড়িও নয়
যে গোত্তা খেতে খেতে উপরে উঠবে
কিংবা মাঞ্জাদেওয়া সুতো ছেড়ে
কাটাকাটি খেলায় মাতবে ।
ভালোবাসা তো সাপলুডো কখনই নয়
যে সাপের মুখে পড়লে নামবে ।
ভালোবাসা এক মূল্যবান অনুভূতি 
হৃদয়ে যার সম্যক উপলব্ধি ।      

Thursday, January 6, 2011

বীরভোগ্যা বসুন্ধরা

       বীরভোগ্যা বসুন্ধরা
                        জামাল ভড়
সামনের দিকে দ্যাখো
ওঁরা তো দৌড়ে অনেক এগিয়ে
জন্মেই জুটেছিল মুখে সোনার চামচ ;
তোমাদের কথা ওঁদের ভাবায়
তাই উড়ে উড়ে বেড়ান
দ্যাখো না গরম পড়লেই
এদেশ থেকে ওদেশ
যেন বসুধৈব কুটুম্বকম্‌ ।
                   
ডানদিকে তাকাও
এঁরা দক্ষিণমুখী
ডান-বরাবরই হাঁটেন
জনতাকে মেল-বন্ধন করে
রাজধানীতে যান
নব শতাব্দীর উদ্বোধন করেন
লাল বিপ্লবী জুজুর ভয়ে
সবুজ বিপ্লবের প্রতিশ্রুতি দেন ।
                         
এবার বামদিকে দ্যাখো
বামদেববাবুরা কেমন আছেন
ডানমুখী জনতাকে কেমন ডাং-ধারী করে
দাবিদাওয়া আদায়ে সোচ্চার করে তুলেছেন
আর এদের দুঃখে ব্যথিত বলেই
মাটির দাওয়া ছেড়ে নিরালায় বসে কাঁদেন
আর বঙ্কিমবাবুর রামা কৈবর্ত ও হাসিম সেখেরা
যে তিমির সেই তিমিরেই ।

কাক

তুমি যখন ভোরের সূচনা কর
আমি তখন রজনীকে শেষবারের মতো
আলিঙ্গন করি
সুখভোগের ক্লান্তিতে অবসন্নতা ঢাকি ।
তুমি ইলাকে কলুষমুক্ত করার ইচ্ছায়
সূত্র-সন্ধানে বিচরণ কর
আমর আঙ্গিনায় , খোলা বারান্দায় ,কার্নিসে
সড়কে অলিন্দে মাঠে ঘাটে বাটে ;
সবাই যখন পোষ্য পালনে অক্ষমতা ঢাকে
অন্যপথে হাঁটে
তুমিই তখন নিজের উষ্ণতা দিয়ে
আর কাউকে চোখ ফুটিয়ে দাও ---

প্রেম

প্রেম
জামাল ভড়
তুমি তখন সবে ষোল পেরিয়ে
একাদশ দিয়েছ । তোমাকে দেখেছিলাম
একদিন কফি হাউসের এককোণে
তোমারই বয়সী আরও তিনজনে
ছিল তোমাকে ঘিরে সিফন চুড়িদারে ।
চোখে চোখ পড়েছিল কিংবা দেখেছিলে ফিরে
আর তখনই ওস্তাদ জাকিরের মরুঝড়ের
লহরী উঠেছিল বুকে ; সঙ্গতে ছিল
পণ্ডিত রবিশংকরের তনামনা --
আজ মধ্যচল্লিশেও সেই দ্বৈতসুরের
মূর্চ্ছনা শুনি বাতাসে কান পেতে ।