আমি কিছু লিখি তখনই
যখন কোন সাঁতারু কোন নদীতে
কাটে সাঁতার, দেয় ডুব
পানকৌটির, করে খেলা অবহেলায় ---
আমি কিছু লিখি তখনই
যখন চাষী ভূমিরূপ দেয়,
বীজ বোনে, ফসল তোলে
গায় আনন্দে গান ---
আমি কিছু লিখি তখনই
যখন কোন শিল্পী ছবি আঁকে
উল্কিরূপে মসৃণ ক্যানভাসে
নানাভাবে দশ আঙুলে ---
তখন কবিতা আমার
সম্ভোগের তৃপ্তি আনে
মন ভাসায় সৃষ্টিসুখের উল্লাসে ---
খোঁজ করুন
Friday, December 31, 2010
স্টিভ আরউইন
তুমি তো কুমিরশিকারী নও
তবুও লোকে তোমায় ঐ নামেইে চেনে
কুমিরকে ভালবেসে কুমিরের কাছে এসে
তাদের সুখ দুঃখের শরিক হয়েছ
শিশুপুত্রকে কোলে নিয়ে নিজেকে বাজি রেখে
তুমি কুমিরকে খাইয়েছ -- আমরা দেখেছি --
অশান্ত গোক্ষুর কিংবা র্যাটল স্নেক
তোমার চোখ ও হাতের ইশারায় বশীভূত ---
তবু তুমি নিমজ্জিত টাইটানিকের মতো
টাইটানিকের আয়স-অবয়ব
কঠিন জলের অভিঘাতে বিচূর্ণিত
তুমিও তেমন আপাদমস্তক
আপাতনিরীহ স্টিং রে-র পুচ্ছাঘাতে
টাসমানিয়ার উপকূলে জলতলেই শায়িত।
তবুও লোকে তোমায় ঐ নামেইে চেনে
কুমিরকে ভালবেসে কুমিরের কাছে এসে
তাদের সুখ দুঃখের শরিক হয়েছ
শিশুপুত্রকে কোলে নিয়ে নিজেকে বাজি রেখে
তুমি কুমিরকে খাইয়েছ -- আমরা দেখেছি --
অশান্ত গোক্ষুর কিংবা র্যাটল স্নেক
তোমার চোখ ও হাতের ইশারায় বশীভূত ---
তবু তুমি নিমজ্জিত টাইটানিকের মতো
টাইটানিকের আয়স-অবয়ব
কঠিন জলের অভিঘাতে বিচূর্ণিত
তুমিও তেমন আপাদমস্তক
আপাতনিরীহ স্টিং রে-র পুচ্ছাঘাতে
টাসমানিয়ার উপকূলে জলতলেই শায়িত।
পরিবর্তন
তোমরাই এনেছিলে পরিবর্তন কয়েক দশক আগে
বলেছিলে উন্নয়নের বান ডেকে যাবে
ভূমিহীনরা পাবে ভূমি
গৃ্হহীনরা গৃহ, রইবে না কোন খেদ
ভূস্বামীদের কমে যাবে মেদ
সে-সব তো হয়নি কিছুই
বরং হে গরিব-দরদি নেতারা
য়ারা স্বাধীনতাকেও স্বীকার করনি
বলেছিলে ঝুটা আজাদি
বুর্জোয়াদের কবি রবি
নেতাজি তোজোর ---
তোমাদের মুখোস গেছে খসে
জনগণ গেছে সরে
ফিরিয়ে নিয়েছে মুখ
দুরুদুরু কাঁপে তোমাদের বুক
পরিবর্তনের নাম শুনে
বরং হে প্র্রতিশ্র্রুতি-ভরা নায়কেরা
একবার নিজেদের দিকে তাকাও
একবার দেশের দিকে তাকাও
কি পেয়েছ আর কি পেয়েছে
হিসাব করো তার ---
ক্ষমতার অলিন্দে
ঠাণ্ডাঘরে বসে
তোমরা যত না বাড়িয়েছ নিজেদের মেদ
মিত্থা-আশ্বাসে জনতার বেড়েছে খেদ
তাই পরিবর্তনের হাওয়া
জনতার চাওয়া
---ভুল বুঝো না ওদের
ক্ষমা করো হে প্রভু
হে দেশভক্ত মহানায়ক ।
Friday, December 24, 2010
অপেক্ষা
অপেক্ষা
জামাল ভড়
সবাই কেমন ভুলে যাচ্ছে তোমায়
কই আমি তো পারছিনে
না-ভোলার যাতনায়
আমিই যে পুড়ে মরছি ;
বড়খোকা যে তুমি-অন্ত-প্রাণ ছিল
সেও , দেখি , এখন ভুলে থাকে
নানান কাজে অকাজে নিজেকে জড়িয়ে রাখে
মাঝে মধ্যে অবশ্য তোমার কথা বলে
কিন্ত সেও তো কম !
আর মেজখোকা যে তোমার
নীলশীতল দেহ ছেড়ে ওঠেনি
শিশুর মতন ডুকরে ডুকরে কেঁদে উঠেছিল
সেও দেখি এখন তোমার কথা
কত কম উচ্চারণ করে --
হয়তো সেও তোমাকে ভুলেছে
কিংবা নিজেকে ভুলিয়ে রেখেছে ।
বড়খুকিটাও দেখি নিজের নাতিকে নিয়ে
কত ব্যস্ত ! অবশ্য তার নিজের শরীরটাও
তাকে কম যাতনা দিচ্ছে না !
হয়তো এই যন্ত্রণা সেই যন্ত্রণাকে
দূরে সরিয়ে দিয়েছে ।
ছোটখোকা আর মেজমেয়ে
তারা তো যে যার সংসার নিয়েই রয়ে গেল
তোমার কথা ভাবার
তাদের যে সময়ের বড় অভাব ।
ছোটমেয়ে যাকে তুমি অনেক দূরে
সংসার পেতে দিয়েছ
তাকে তো দেখিনে --মাঝে মাঝে
সে ফোন করে -- কথা বলে --
আমার শরীরের খবর নেয় -- আর
তোমার কথা উঠলেই
কেঁদে ফেলে টেলিফোনেই ।
ছেলেমেয়ের মতো আমি যদি
তোমাকে ভুলতে পারতাম !
তুমি নেই -- একথা তো একবারও মনে হয়না
আজান শুনলেই মনে হয়
তুমি মসজিদেই আছ এখনও
এখনও জানো ভুল করে আয়না চিরুনি নিয়ে
দাঁড়িয়ে থাকি , তুমি ওজু সেরে চাইবে বলে
তোমার গামছাটা পাট করে
হাতের কাছে রেখেছি
তোমার টুপি , তোমার জায়নামাজ
তোমার তসবিহ্ আমার চোখের সামনে
প্রতি পলেই মনে হয়
এই বোধ হয় তুমি ডাকলে
আর এই ডাক শোনার জন্য
আমি আর কতদিন অপেক্ষা করব !
নজরুল
নজরুল
জামাল ভড়
সূর্যকেন্দ্রিক একদল গ্রহ
যখন আবর্তিত
সূর্যালোকে প্রতিভাত
তখন ধুমকেতুসম
তোমার আবর্ভাব
স্বয়ং সূর্যও অভিভূত --
আস্কন্ধলম্বিত চুল
কাজী নজরুল
আয়তনেত্রের একটাই নাম
কাজী নজরুল ইসলাম ।
ফণিমনসার ঝোপে
বিষের বাশীঁতে বাজে ছায়ানটের সুর
চুরুলিয়ার সেই অগ্নিশিশু
বাজায় যখন অগ্নিবীণা
সাথে ভাঙার গান
তখন মরুভাস্বরেও
ফোটে দোলনচাঁপা
কিংবা ঝিঙেফুল
সন্ধ্যা নামার সাথেই
নতুন চাঁদ ঘিরে
ধেয়ে চলে আসে চক্রবাক
আমার চিত্তনামায়
জ্বলে প্রলয়শিখা
বহে ঝড়
মুক্ত জিঞ্জির আমি
সিন্ধুহিল্লোল মাঝে
গাহি সর্বহারার গান
কপালে আমার এক
নতুন চন্দ্রবিন্দু ।
Thursday, December 23, 2010
মশা মারতে কামান দাগা
জামাল ভড়
মশাটাকে মারতেই হবে
একটু যে ঘুমাবো তার জো নেই
সব সময় কানের পাশে সাইরেন ।
আলোটা জ্বালালাম
মশারীটা তন্নতন্ন করে খুঁজলাম ;
ভাবলাম - ব্যাটা বোধ হয় মরেছে
এলোপাথাড়ি চড়চাপাটিতে ।
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আবার গেলাম ঘুমাতে ;
সবে লেগেছে তন্দ্রা
আবার শুনি পোঁ -- এবার আরও তীক্ষ্ণ ।
মেজাজ গেল খিঁচিয়ে
সব কটা বাতি দিলাম জ্বেলে
খানাতল্লাসি শুরু হয়ে গেল --
যেমন খুশি তেমনই চালালাম চড়চাপ্পড়
আপদ বিদায় ভেবে পড়লাম শুয়ে ;
অনেক কষ্টে সবে লেগেছে চোখ
আর ঠিক তখনই ঠিক চোখের পাতায়
বিনা সাইরেনে বেঁধালো শূল কিংবা ত্রিশূল ।
দাঁতে দাঁত চেপে উঠে পড়লাম বেগে
বিছানাশুদ্ধ মশারীটা দিলাম জ্বালিয়ে
ব্যাটা পুড়ে মরুক জন হাসের মতো ।
উপেনের সাথে দেখা
উপেনের সাথে দেখা
জামাল ভড়
সেদিন পথ চলতে চলতে আচমকা
একেবারেই আচমকা উপেনের সাথে দেখা
পরিপাটি চুল , হাসি হাসি মুখ
দেখে বোঝার উপায় নেই বয়স কত
আমি বললাম : কেমন আছ উপেন ?
বললে : বাবু আমি আর একা নই
যেদিকেই দেখি ঘুরে
রায়চক বারাসাত সিঙ্গুরে
সর্বত্রই আমি-তে ভরা ; বলা চলে
আমিত্বে ভরে গেছে দেশটা ।
শুধু বললেম : কেন ?
বললে : ওরা বললো হ্যানো হবে ত্যানো হবে
কত কী হবে যেন - আর -ওঃ প্রাচ্যের ম্যানচেষ্টার ।
আমার মতো এরাও বলেছিল :
জমি নিও না বাবু , হব সর্বস্বান্ত -
চৌদ্দপুরুষের জিরেতটুকুই সর্বস্ব -
খেটেখুটে খাই - কোনমতে দিনগুজরান করি -
তা ওরা বললে : চাষ তো ভাগাড়েও হয়
শিল্প , অনুসারী শিল্পের জন্য তো
জমি চাই -- শালিজমিই চাই
শিল্প তো আকাশে হয় না !
উপেন বললে আরও : আমার বাবু ছিল সেযুগে
পারিষদ ছিলকিছু -- আর এযুগের
বাবুকে তো দেখাই যায় না
শতশত বাবু একই চেহারার একই পোশাকের
ঠিক যেন হিটলারের মতো
কোন্টা আসল চেনাই যায়না !
Wednesday, December 22, 2010
নদী ও নারী
নদী ও নারী
জামাল ভড়
নারীরূপের মধ্যেই আছে নদীরূপের সাযুজ্য
মৌবনির মাসি শালবনিকে দ্যাখো :
মনে হয় বর্ষার ভরা মাতলা
জোয়ারে প্লাবিত চারপাশ
অভীকের মতো দক্ষ সাঁতারুও
হাবুডুবু খায় ----
আর উচ্ছল ছল ছল কল্লোলিনী
চপলা চঞ্চলা নির্ঝরণীর
মতো বয়ে চলা কবিতাকে দ্যাখো :
নৃত্যপটিয়সীর ছন্দে ব্যাকুলা
কাছে টানার আকুল বাসনা
মৃদু সমীরণ মলয়ানিলও
যেখানে হারিয়ে যায় ----
আবার যখন দেখি সৌমির
নাম-ভুলে-যাওয়া দিদিমাকে
তখন তো মনে হয় শুকিয়ে যাওয়া
দীর্ণ শীর্ণ সুবর্ণরেখা নদী
যে-পথ ছিল সদা চঞ্চল
সদাগরি পণ্যবাহী জাহাজের যাতায়াত
এখন মজে যাওয়া
মাটির সাথে মিলিয়ে যাওয়া
শুধু সময়ের অপেক্ষায় ----
দ্বিপাক্ষিক
দ্বিপাক্ষিক
জামাল ভড়
এসো মুখোমুখি বসি
কথা বলি দুজনে
কথা বলতে তো দোষ নেই
কথায় কত কী না হয়
কথা যেমন পারে
আচমকা উল্কাপিণ্ডের
ক্ষত সৃষ্টি পৃথিবীর বুকে
তেমনি পারে আবার
ধ্বস্ত হৃদয়ের পুনর্বাসন ।
তাই এসো মুখোমুখি বসি
কথা বলি দুজনে
কথা বলি , তবে পিছুফিরে নয়
সামনে তাকিয়ে , দৃষ্টি করে প্রসারিত --
পথ পাওয়া যেতে পারে
এগিয়ে চলার পথ
মিলেও তো যেতে পারে
সহবাসের পথ
সৃষ্টির পথ -- ।
কথা
কথা
জামাল ভড়
ভাসমান মেঘ থেকে হাতের ইশারায়
সবাই যখন উড়ন্ত কথাগুলোকে
দক্ষ বাজিগরের মতো ধরে আনে
কান পাতে , উত্তর করে আপন মনে
জনারণ্যে , বিজনে , তখন মনে হয়
সবাই যেন বড় বেশি বখাটে হয়ে গেছে ।
ভাসমান মেঘ থেকে হাতের ইশারায়
সবাই যখন উড়ন্ত কথাগুলোকে
পাখিদের মধ্য দিয়ে নামিয়ে আনে
চলন্ত বাসে , ট্রেনের কামরায় কিংবা
আলাপচারিতায় তখন তো কথা
শরবিদ্ধ বলাকার মতো যন্ত্রণা দেয় ।
যে ছিল মৌনী , যে ছিল মিতভাষী
সেও দেখি আজকাল কথার কারবারি
কারণে অকারণে আপন মনে হাসে ,
ধমকের সুরে কথা বলে কিংবা
অলীক অবস্থান জানায় নিজের
অথবা অনৃতভাষী করে নিজেকে ।
ত্রসরেণু থেকে যখন বিচ্ছিন্ন করে
ধরা পড়ে তোমার ছিপে , ফাতনা ডোবে-ভাসে
তুমি তখন সুযোগ বুঝে গেঁথে তোল
খেলা কর , সুতো ছেড়ে চরকি-পাক খাওয়াও
তখন তো তুমি সৃষ্টি কর আর এক
নতুন যন্ত্রনার
জামাল ভড়
ভাসমান মেঘ থেকে হাতের ইশারায়
সবাই যখন উড়ন্ত কথাগুলোকে
দক্ষ বাজিগরের মতো ধরে আনে
কান পাতে , উত্তর করে আপন মনে
জনারণ্যে , বিজনে , তখন মনে হয়
সবাই যেন বড় বেশি বখাটে হয়ে গেছে ।
ভাসমান মেঘ থেকে হাতের ইশারায়
সবাই যখন উড়ন্ত কথাগুলোকে
পাখিদের মধ্য দিয়ে নামিয়ে আনে
চলন্ত বাসে , ট্রেনের কামরায় কিংবা
আলাপচারিতায় তখন তো কথা
শরবিদ্ধ বলাকার মতো যন্ত্রণা দেয় ।
যে ছিল মৌনী , যে ছিল মিতভাষী
সেও দেখি আজকাল কথার কারবারি
কারণে অকারণে আপন মনে হাসে ,
ধমকের সুরে কথা বলে কিংবা
অলীক অবস্থান জানায় নিজের
অথবা অনৃতভাষী করে নিজেকে ।
ত্রসরেণু থেকে যখন বিচ্ছিন্ন করে
ধরা পড়ে তোমার ছিপে , ফাতনা ডোবে-ভাসে
তুমি তখন সুযোগ বুঝে গেঁথে তোল
খেলা কর , সুতো ছেড়ে চরকি-পাক খাওয়াও
তখন তো তুমি সৃষ্টি কর আর এক
নতুন যন্ত্রনার
Subscribe to:
Comments (Atom)